REMIANS DEBATING SOCIETY

ফ্যাসিজম—ইতিহাস, ধারণা, বর্তমান।

Abu Bakar || DEBATER - RDS

3/18/20261 min read

আমি যখন “ফ্যাসিজম” শব্দটা প্রথম শুনি, তখন মনে হয়েছিল এটা শুধু ইতিহাসের কোনো পুরনো অধ্যায়ের অংশ। কিন্তু ধীরে ধীরে বুঝলাম, এটা শুধু অতীতের বিষয় না, বরং এমন একটা ধারণা, যা আজও বিভিন্ন রূপে আমাদের সমাজের জন্য একটি ভীতিকর বিষয়।

ফ্যাসিজম কী?

ফ্যাসিজম হলো একটি চরম স্বৈরাচারী রাজনৈতিক মতবাদ, যেখানে রাষ্ট্র বা একজন নেতা সবকিছুর উপরে অবস্থান করে। এখানে ব্যক্তির স্বাধীনতা, মত প্রকাশের অধিকার, এমনকি বিরোধী মত সবকিছুই কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
এই মতবাদে সাধারণত কিছু বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। যেমন—

  • একক শক্তিশালী নেতা বা শাসকের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা।

  • ভিন্নমত দমনের চেষ্টা।

  • গণমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা।

  • জাতীয়তাবাদকে অতিরিক্তভাবে ব্যবহারের চেষ্টা।

  • আইন ও বিচার ব্যবস্থার ওপর জোড় খাটানোর চেষ্টা।

এই গেল হচ্ছে, ফ্যাসিজম জিনিসটা কি!

এখন আসা যাক, একজন ফ্যাসিস্ট আসলে দেখতে কেমন?

সত্যি বলতে, একজন ফ্যাসিস্টকে দেখে আসলে কোনসময় চেনা যায় না। তারা সাধারণ মানুষের মতোই। কিন্তু তাদের চিন্তাভাবনায় কিছু লক্ষণ থাকে। যেমন—

  •  তারা চায় সব ক্ষমতা একটি ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর হাতে রাখতে।

  •  তারা বিরোধী কোনমত সহ্য করতে পারে না ।

  •  তারা নিজের মতকেই পূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

  •  তারা কাঠমাগত উন্নয়ন দেখিয়ে মানুষের চোখে ধুলো দেয়ার চেষ্টা করে।

ইতিহাসে আমরা দেখেছি, ফ্যাসিজম কিভাবে ভয়ংকর রূপ নিয়েছিল, এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে উক্ত ফেসিস্ট হাসিনার পতন হয়।

এখন, আমরা কেন ফ্যাসিজমকে অপছন্দ করি?

আমি মনে করি, ফ্যাসিজমকে অপছন্দ করার প্রধান কারণ হলো, এটি মানুষের স্বাধীনতাকে সীমিত করে। মানুষ নিজের মত প্রকাশ করতে পারে না, ভিন্নভাবে চিন্তা করতে পারে না। সমাজ তখন একরকম ভয় আর নিয়ন্ত্রণের মধ্যে চলে যায়, এবং এর ব্যবহার করে ফ্যাসিস্ট বিভিন্ন ধরনের কাঠামত উন্নয়নের নামে দুর্নীতি করতে থাকে এবং একটি রাষ্ট্র ধ্বংস করতে থাকে।

তবে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো,কোনো ব্যক্তি বা নেতাকে “ফ্যাসিস্ট” বলা খুব বড় একটা অভিযোগ। এটা বলার আগে আমাদের তথ্য, প্রমাণ এবং নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ খুবই প্রয়োজন।

বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট:

বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করলে অনেক সময় বিভিন্ন পক্ষ একে অপরকে “ফ্যাসিস্ট” বলে থাকে। কিন্তু বাংলাদেশের যে বর্তমান অবস্থা, এবং বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের বয়স কম হওয়ায়, আমরা চাইলেই তাদেরকে ফ্যাসিস্ট বলতে পারিনা। কারণ সামান্য কিছু কার্যক্রমে একটা সরকারকে বা নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে ফ্যাসিস্ট বলে আখ্যায়িত করা যায় না। কারণ আমাদের মনে রাখতে হবে, এই ফ্যাসিস্ট কার্যক্রম বা ফ্যাসিজমের মত কোন কিছু প্রতিষ্ঠা করতে হলে সেটা একদিনে করা যায় না। সেটি করতে হলে একটি নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে বা একটি সরকারকে ধীরে ধীরে তা বাস্তবায়ন করতে হবে, এবং এটি কম সময়ের মধ্যে করা বা কয়েকদিনের মধ্যে করা প্রায় অসম্ভব। কিন্তু যদি সাংবিধানিক ত্রুটি থাকে, তাহলে সেটি কম সময়ের মধ্যে হওয়া সম্ভব কিছু ক্ষেত্রে। কিন্তু এই মুহূর্তে কোন রকম সাংবিধানিক ত্রুটি নিয়ে আমি কথা বলছি না।

কিন্তু আমি এখানে কিছু জিনিস নিয়ে কথা বলতে চাই। রাজনৈতিক মতভেদ থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু কোনো সরকারকে সরাসরি “ফ্যাসিস্ট” বলা একটি জটিল এবং বিতর্কিত বিষয়।

এটা নির্ভর করে অনেকগুলো বিষয়ের ওপর। যেমন—

  • নির্বাচনের স্বচ্ছতা আছে কিনা।

  • মত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে কিনা।

  • গণমাধ্যমের স্বাধীন অবস্থা বিরাজ করছে কিনা।

  • বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আছে কিনা।

আমার দৃষ্টিভঙ্গি:

আমি মনে করি, একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমাদের কাজ হলো প্রশ্ন করা, তথ্য খোঁজা, এবং নিজের মতো করে তা বিশ্লেষণ করা। অন্ধভাবে কাউকে সমর্থন করা যেমন ঠিক না, তেমনি প্রমাণ ছাড়া কাউকে ঘৃণা করাও ঠিক না।

ফ্যাসিজমের ভয়টা এখানেই,যখন মানুষ প্রশ্ন করা বন্ধ করে দেয়, তখনই এই ধরনের শাসন সহজে জায়গা করে নিতে পারে।

সবাইকে বুঝতে হবে, ফ্যাসিজম শুধু একটা রাজনৈতিক শব্দ না, এটা একটা সতর্কবার্তা। ইতিহাস আমাদের শিখিয়েছে, ক্ষমতা যখন এক জায়গায় জমা হয়, তখন সেটা ধীরে ধীরে মানুষের স্বাধীনতাকে গ্রাস করতে পারে। (উদাহরণ—আওয়ামী লীগের শাসনামল)

আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো সচেতনতা, প্রশ্ন করার সাহস, আর সত্য জানার চেষ্টা করা।